Welcome to Tanzimul Ummah Alim Madrasah
Education is the harmonious development of body, mind and soul. দেহ, মন ও আত্মার সুসামঞ্জস্য বিধানই শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। আর শিক্ষার জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী সিলেবাস, উপযুক্ত পরিবেশ এবং উন্নত পাঠদান পদ্ধতি ।
ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জনের একমাত্র মাধ্যম হল ইসলামী শিক্ষা। দীর্ঘ যুগ ধরে আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশে ইংরেজদের আগমনের পূর্বে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিজ্ঞান, বাণিজ্য, কৃষি ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়েও পাঠদান করা হত। ইংরেজদের আগমনের পর মুসলিম জাতি দীনহীন জাতিতে পরিণত হয়। সরকারী-বেসরকারী সকল মাদরাসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ১৭৮১ সালে মুসলমানদের দাবীর প্রেক্ষিতে কলকাতায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজ সরকার কর্তৃক গঠিত শিক্ষা কমিশনগুলো মাদরাসা শিক্ষা সংস্কারের নানা প্রস্তাব পেশ করে। এ সকল প্রস্তাবে মাদরাসা শিক্ষাকে ইসলামী শিক্ষায় পরিণত করার জন্য কোন সুপারিশ করা হয়নি। ১৮৮১ সালে উইলিয়াম হান্টারকে সভাপতি করে গঠিত শিক্ষা কমিশন মুসলমানদের শিক্ষা পুনর্গঠনের জন্য ১৭দফা সুপারিশমালা পেশ করে। তম্মধ্যে ছিল শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে উর্দুকে গ্রহণ, বিভিন্ন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান। ১৯১৫ সালে ইসলামী ও ইংরেজী শিক্ষার সমন্বয়ে নিউ স্কীম মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর গঠিত প্রথম সরকার নিউ স্কীম মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল ও মাদরাসাসমূহে পুরাতন পদ্ধতি চালু করে। তারপর শরীফ কমিশন ও বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন মাদরাসা শিক্ষা সংস্কারে কতিপয় সুপারিশ প্রনয়ণ করলেও তার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন এবং শামছুল হক শিক্ষা কমিশনসহ আরো বেশ কিছু কমিশন গঠিত হলেও বাস্তবসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য কোন কার্যকরী পরিকল্পনা নেয়া হয়নি ।
বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সাধারণ এবং মাদরাসা শিক্ষা এ দু’ভাগে বিভক্ত। সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান শিক্ষাদান পদ্ধতিতে যুগোপযোগী কোন আধুনিক প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। অপরদিকে এ শিক্ষা ব্যবস্থায় কুরআন সুন্নাহভিত্তিক কারিকুলাম থাকা সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির অপ্রতুলতার কারণে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করতে আগ্রহী হন না। অথচ কুরআন সুন্নাহভিত্তিক মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই বেরিয়ে এসেছিলেন অংকশাস্ত্রের বিস্ময় আল খাওয়ারেজমী, দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী, ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা ।
তাই একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় অবদান রাখতে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধন এবং এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিকল্প নেই। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এমন একদল সুশিক্ষিত আদর্শ নাগরিক তৈরী করেছিলেন, যারা গোটা বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলে ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ও বিজয়ী প্রমাণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন ছাত্র উপস্থাপন করার প্রত্যয়ে তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার পদযাত্রা।
Photo Gallery
